তুর্য কমিউনিস্ট মা বাবার একমাত্র সন্তান। তুর্যের বাবা মুসলিম থেকে নাস্তিকে কনভার্ট হয় ২২ বছর বয়সে। তারপর সমাজের চাপে নিজ স্থান ছেড়ে চলে যায় অনেক দূরে। সেখানে ২৭ বছর বয়সে বিয়ে করে তার নাস্তিক এক বান্ধবীকে। ২ জনের সংসারে খুব আদর যত্ন আর ভালোবাসায় বেড়ে উঠে তুর্য। তুর্যের মা বাবা দু’জনই চাকুরীজীবী।
বর্তমানে তুর্যের বয়স ১৭ বছর এবং সে একটি কমিউনিস্ট প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত।
এলাকায় কিংবা খেলায় সে অনেকটা সময় পার করে বন্ধু-বান্ধবের সাথে। নানা ধর্ম বর্ণের বন্ধুদের সাথে যে সময়টুকু পায় ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে সে নানা বিষয় জানার চেষ্টা করে। ছোটবেলা থেকে বন্ধুদের সাথে চলাফেরা-মিলামেশায় অনেক কিছুই জানা হয়েছে তার। তবে অনেক সময় ছোট-খাটো নানা বিষয় নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়ে পড়ে তারা এবং তুর্যকে শুনতে হয় নানা উপহাসমূলক বাক্য।
অন্যদিকে তুর্য ঘরে ফিরে তার মা বাবার কাছে ধর্মের নানান বিষয়গুলো তুলে ধরতেই তারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবে তিরস্কার এবং ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়ে বিজ্ঞানের কথা বলে।
অসহায়ের মত তুর্য দু’পক্ষের পাল্টা পাল্টি মন্তব্যর মাঝে এভাবেই বড় হয়েছে। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে এসব বিষয়ে তার আগ্রহ বেড়েই চলেছে। পূর্বের তুলনায় এসব বিষয়ে তুর্য এখন অনেক বেশি সময় দিচ্ছে। রাতে ঘুমানোর আগে রুমের দরজা লক করে ইউটিউবে দেখছে ধর্ম এবং নাস্তিকতার নানা ভিডিও। দেখছে নানা তর্ক বিতর্ক এবং যুক্তি। তুর্যের পূর্ব পুরুষ মুসলিম ছিলেন বিধায় ইসলামের প্রতি তার আকর্ষণ এবং কৌতুহল তুলনামূলক বেশি। মুসলিম হোক, হিন্দু হোক, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোন ধর্মের হোক পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ ধর্মের বিশ্বাসী তথা সৃষ্টিকর্তা আছেন বলে মনে করেন তবে কিছু দল আছে যারা এসবে বিশ্বাস করেন না, যেখানে তুর্যের পিতা মাতাও আছেন। কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছেনা তুর্য।
পড়ালেখার পাশাপাশি সমানতালে কমিউনিজম এবং রিলিজিয়নের গভীর থেকে গভীরতম বিষয় নিয়ে জানার চেষ্টা করছে তুর্য। এভাবে কেটে গেলো আরো ৬-৭ মাসের মত। ইসলামের প্রতি তার আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
তবে এবার নানান সমস্যার সমাধান বা প্রশ্নোত্তরের ক্ষেত্রে এবার তুর্য ব্যতিক্রম। মা বাবার কাছে প্রশ্ন না করে বন্ধু-বান্ধব কিংবা ইন্টারনেট জগতে খুঁজে বেড়ায় উত্তর।
একদিন রাতে খাবার টেবিলে হুট করে বাবাকে তুর্যের পুরাতন প্রশ্ন……..
– বাবা তুমি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করোনা কেনো?
– তুকে আর কতবার বলবো? এখন বিজ্ঞানের যুগ, আধুনিক যুগ। এখানে স্রষ্টার অস্তিত্ব বলতে কিছু নেই। যা নেই, যা দেখিনা ওটা আমি বিশ্বাস করিনা।
– সবকিছু কি দেখলেই বিশ্বাস করতে হবে নাকি! আমরা বাতাস দেখিনা, ফুলের ঘ্রাণ দেখিনা, জ্বর/মাথা ব্যথা দেখিনা কিন্তু এসবে বিশ্বাস করছি। তাই না বাবা?
– দেখিনা ঠিক আছে কিন্তু আমরা অনুভব করতে পারি এবং এসব কিছু বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
– আমিও ঠিক তাই বলছি। এই সৃষ্টি জগতের দিকে তাকালে, সাথে এতো এতো নিদর্শন এসব দেখে কি একটি অনুভূতি কাজ করেনা যে সৃষ্টিকর্তা বলে কেউ আছেন?
– এখানে সৃষ্টিকর্তা আসবে কেনো? এই বিশ্বজগত এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে ছোট একটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে।
– ঠিক আছে বুঝলাম বিস্ফোরণে সৃষ্ট হয়েছে কিন্তু বিস্ফোরণটি কে ঘঠিয়েছে?
– এত প্রশ্ন করছিস কেনো? বিস্ফোরণ আবার কে ঘটাবে! এমনিতেই ঘঠেছে।
– বাবা… তুমিইতো বলো এমনি এমনি কিছু হয়না। সবকিছুর পেছনে বিজ্ঞান রয়েছে, তাই বললাম।
– যা বলেছি, ঠিকই বলেছি…..তুই কি এখন ধর্ম মেনে চলবি নাকি বিজ্ঞানে বিশ্বাস করবি।
– বাবা ধর্মকে তখনি অবজ্ঞা করার প্রশ্ন উঠে যখন এটি সরাসরি বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে যায় কিন্তু এখানে এমন কিছু ঘটছে না। আমি কোরআনের অনেক বৈজ্ঞানিক আয়াত পড়েছি অর্থ বুঝেছি যা প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
– শুন বিজ্ঞান সবসময় ধর্মের উর্ধে। বিজ্ঞানের কাছে ধর্ম মর্ম এইসব কিছুই না।
– বাবা, ধর্ম অপরিবর্তনশীল কিন্তু বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল।
– মানে!!
– বাবা তুমি দেখো আজ থেকে ১৫০-২০০ বছর আগে সবাই ভাবতো পৃথিবী স্থির আর সূর্য তার চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে। তখনো কিন্তু বিজ্ঞান ছিলো আর মানুষ এই উক্তি বিশ্বাস করেছিল এবং কোরআনের বাণীকে মিথ্যা বলেছিল। কিন্তু আজ বর্তমান বিজ্ঞান পূর্বের মতবাদকে পুরপুরি অস্বীকার করে।
-হা হা। কি বললি? কোরআন!! তুই এসব মনগড়া আর পুরনো বই পড়ে কি পাবি? যদি জ্ঞান অর্জন করতে চাস বিজ্ঞানের বই পড়।
-শুন বাবা.. কোন একটি বইকে তখনি মনগড়া আর পুরনো বলা যায় যদি তা সময়ের সাথে যদি পিছিয়ে থাকে। আমি তোমার কথা মানছি যে, বিজ্ঞানের বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করা উচিত। কোরআন ঠিক তাই বলছে। কিন্তু এতো বছর পুরোনো একটি বইতে পৃথিবী, চন্দ্র, সুর্য, মহাকাশ সম্পর্কিত ধারনা। বৃষ্টিপাতের কৌশল, পিপিলিকা, মৌমাছি ইত্যাদি কীটপতঙ্গসহ নানান প্রানীর জীবনধারণ সম্পর্কিত তথ্য কে লিখতে পারে? এটি কি স্রষ্টা প্রদত্ত কোন বাণী নয়?
– হতে পারে তখনকার কোন জ্ঞানীব্যক্তি বা দার্শনিক বইটি লিখেছে।
– তাই বলে আজকের প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের সাথে মিলে যাবে এমন তথ্য কিভাবে লেখে? এটি কিভাবে সম্ভব।
– আচ্ছা তুই যে সৃষ্টিকর্তার নিদর্শনের কথা বললি ওটা কি?
– এই যে সূর্যকে কেন্দ্র করে এত গ্রহের নিজ নিজ কক্ষপথে অবস্থান যাদের মাঝে পারস্পারিক কোন সংঘর্ষ নেই। সৃষ্টিকুলের জন্য দিন রাতের ব্যবস্থা। বেঁচে থাকার জন্য রয়েছে নানা উপাদান। রয়েছে নানা ঋতুর ব্যবস্থা, ঋতু উপযোগী নানান ফল। বাবা এসব বলতে গেলে অনেক কিছুই…. তুমি কি এসব নিয়ে চিন্তা করনা?
– এসব বিজ্ঞান। চিন্তা করার কিছুই নেই। তুই আমাকে বল একটি ধর্মগ্রন্থ কিভাবে বলে একজন পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারে!! এটি কি বিশ্রী এবং আপত্তিকর কোন মন্তব্য নয় কি?
– ওয়েট ওয়েট.. বাবা তুমি নিশ্চয় জানো বর্তমান পৃথিবীতে পুরুষের তুলানার মহিলাদের সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। যদি প্রতিজন পুরুষ একটি করে বিয়ে করে তারপরেও যে অবশিষ্ট অবিবাহিত নারী থেকে যাবে তাদের দায়িত্ব কি তুমি নিবে?
– আমি কেনো নিতে যাবো?
– আমি জানি তুমি নিতেও পারবেনা। কারো পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাই সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই জানেন বলে এই ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কোরআন এটি বলছেনা যে, অবশ্যই ৪জন স্ত্রী থাকতে হবে। বলছে একজন পুরুষ সর্বোচ্চ ৪টি বিয়ে করতে পারবে তবে এখানেও অনেক শর্ত রয়েছে এবং সেইসাথে পূর্ববর্তী স্ত্রীদের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একমাত্র বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমে তারা হতে পারে অধিকারভূক্ত স্ত্রী। যদি এমনটি ব্যবস্থা না থাকতো তাহলে অবশিষ্ট নারীরা হতো জনগণের সম্পত্তি। তখন তাদের সমাজে তথা বিশ্বে নিচু স্থানে দেখা হতো। বাবা তখন কি তোমার বিশ্রী কিংবা আপত্তিকর, জঘন্য সিস্টেম বলে মনে হতো না?
– জানিনা…. যখন হতো তখন দেখা যেতো। প্রয়োজনে মানবতার জন্য সারা বিশ্ব মিলে একটি বই তথা নিয়ম রচনা করতাম।
– হা হা হা। কে লিখবে বাবা এই বই? এই তৈরি করবে এসব নিয়ম কানুন? আপনি বলবেন একটি, অন্যজন বলবে আরেকটি। আমরা বলব এভাবে হবে কিন্তু অন্য দেশ বলবে ওইভাবে হবে। আজ যেটা সঠিক ওটা হতে পারে কাল পরিবর্তন অথবা বাতিল। তাই সৃষ্টিকর্তা জীবন পরিচালনার জন্য যুগে যুগে পাঠিয়েছেন ধর্মগ্রন্থ অর্থাৎ মানবতার সমাধান।
– হুম দেখছিতো। ধর্মাবলম্বীরা মৌলবাদীরা এইসব ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করে যুদ্ধ করছে, বোমা হামলা করছে। নিরীহ মানুষদের সাথে অত্যাচার করছে।
– বাবা যারা এসব করে তাদের কোন ধর্ম নেই। কোন ধর্মই বলছেনা তোমরা নির্যাতন কর, পাপ কাজ করো। যুদ্ধ করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করো।
– তুই নিজেই দেখ ISIS মানে Islamic State of Iraq & Syria. তারা কিন্তু মুসলিম। আল্লাহু আকবর বলে কিভাবে নিরীহ মানুষদের জবাই করছে পশুর মত। তারপরেও তুই কি বলবি?
– শুন বাবা, এখন আমি আর তুমি যদি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলি আমরা মঙ্গল গ্রহের প্রাণী। এখন কি সবাই এসে আমাদের কথা বিশ্বাস করে নিবে? আমরা বললেই কি মঙ্গল গ্রহের পাণি হয়ে গেলাম?
– তা কেনো হবে?
– হুম, সেটাই। তা কেনো হবে!! তারা যদি নিজদের ইসলামিক স্টেট বলে দাবি করে তাহলে কি তারা তাই হয়ে গেলো? পৃথিবীর সকল ইসলামিক স্কলার তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। সকল ইসলামিক দেশ তাদের তিরস্কার করেছে, তাছাড়া কোরাআনে স্পষ্ট ভাষায় বলা আছে ”যে কোন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করলো, সে যেনো পুরো মানবজাতিকে হত্যা করলো।’’ তারা ইসলামের নিয়ম না মেনেই নিজেদের মুসলিম দাবি করলে আমাদের কি তাই বিশ্বাস করতে হবে। আর আল্লাহু আকবর বা জয় মা বলে কোন হারাম কাজ করলে সেটি হালায় হয়ে যায়না।
– আমি এত কিছু বুঝিনা। তারা টুপি-পাঞ্জাবি পড়ে এসব কাজ করছে। তারা অবশ্যই মুসলিম…
– বাবা, আমি আর্মির পোষাক পড়লেই যেমন আর্মি হয়ে যাবো না তেমনি তারাও ঠিক তাই। আর কোন ধর্ম সম্পর্কে জানতে হলে ধধর্মগ্রন্থ সমূহ দেখা উচিত, অনুসারীদের নয়।
– আচ্ছা তুই বল, সৃষ্টিকর্তা যদি থেকে থাকেন তাঁকে বিশ্বাস করলে আমাদের কি উপকার? কি লাভ আমাদের?
– অবশ্যই আছে বাবা… এই যে গত সপ্তাহে কিছু লোক তোমার থেকে অনেক টাকা চাঁদা নিয়ে গেলো। তুমি কিছু করতে পেরেছ? পুলিশের কোন সহায়তা তুমি পেয়েছ?… জানি পাওনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একদিন অবশ্যই তাদের বিচার হবে সেদিন অবশ্যই সত্যর জয় হবে।
– কে করবে বিচার? আর আজকের বিচার তখন করে কি হবে?
– যিনি আমাদের প্রতিপালক তিনিই করবেন। আর সেদিন বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পুরস্কৃত আর তিরস্কৃত করা হবে। বাবা তোমাকে যদি বলা হয় আজকে তোমার থেকে ১ টাকা নিয়ে ১০ বছর পর ১কোটি টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে। তাহলে তুমি কি করবে?
– কি করব মানে.. অবশ্যই রাজি হয়ে যাবো।
– হুম ঠিক তাই। আমিও তাই বুঝাতে চেয়েছি এবং আমি সেই পুরস্কারের আশায় আছি।
– হাহা। তুর কথাগুলো পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই না। ধর, যদি আমরা এই বিচারের ব্যবস্থা করি তাহলে কি হয়না….?
– অবশ্যই…আমিও চাই তা হোক কিন্তু কে করবে এমন একটি আদালত যেখানে নিরপেক্ষ এবং সঠিক বিচার হবে? তুমি কি গ্যারান্টি দিতে পারবে এমন কিছু সম্ভব? আর যদি কোন মানুষ শত মানুষ খুন করে, লাখো কোটি অপরাধ করছে তাকে কিভাবে শাস্তি দিবে?
– একদম সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। কোন এক্সকিউস হবেনা….
– হাহা বাবা। তুমি না হয় একবার ফাঁসি দিয়ে হত্যা করবে কিন্ত বারবার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আরো শত হাজার খুনের বিচার কিভাবে করবে??
– জানিনা। যা হবার তাই হবে।
– তুমি বলছো যা হবার তাই হবে কিন্তু আমি বলবো প্রতিটি খুনের বিচার হবে। একদিন তাকে বার বার চামড়া, রক্ত-মাংস দিয়ে জীবিত করে শাস্তি দেওয়া হবে।
– কিসের একদিন? কোথায় সেই পরকাল? কোথায় সর্গ-নরক? কোথায় তোদের স্রষ্টা? কখনো কি দেখেছিস কোন একটি?
– বাবা আমরা ধাপে ধাপে পূর্বের থেকে অনেকে কিছুই জেনেছি দেখেছি। এই মহাবিশ্বের অনেক কিছুই এখনো বিজ্ঞানের অজানা। এই সৃষ্টির বিশালতা এতই বড় যেখানে হারিয়ে যেতে পারে বিজ্ঞান। বিজ্ঞান এখনো এসবের নাগাল পাইনি ঠিক কিন্তু অস্বীকার করার মতো কোন তথ্য কোন এভিডেন্স কেউ এখনো দিতে পারে নি। এই যে, এইসবের প্রতি আমার বিশ্বাস, আমার ভয়.. তুমি বলছ অবৈজ্ঞানিক কিন্তু আমি বলছি বৈজ্ঞানিক যা আমি বুঝতে পেরেছি কিন্তু তুমি পারোনি……
__এভাবে দিন যায়, তুর্য ধীরে ধীরে ছুটে চলেছে কমিউনিজম থেকে আর তার বাবা নিজের অবস্থানে থেকে এখনো যুক্তি খন্ডনের চেষ্টা।





0 Comments